চিঠি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চিঠি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২২

সোমজিৎকে লেখা পত্র



দুপুরের স্তব্ধতা - ৬
----------------------------

সোমজিৎ
তোমার চিঠি আমাকে খুশি করেছে খুব। এরকম চিঠি আরো লিখবে, এই আশা।

আমার কাছেও আশা করে ছাতিম গাছ । আমি যেন তার ছায়া জড়িয়ে প্রতিদিন তাকে ভালবাসতে পারি।

কোনো কোনোদিন ভুলে গেলে
আবহকে ডেকে নিয়ে ছাতিমের কাছে যাই। রাত হলেও যাই।
তখন ছাতিমের ছায়া আরো বেশি রহস্যময়।

আবহ বলছিল---ছাতিমতলাতেই বসতে হবে কেন? অন্য গাছের তলায় বসলে আমরা কি তৃপ্তি পাবোনা?

আমি নীরব ছিলাম।

ছাতিম তলা থেকে আমি এক নিঃশ্বাস শুনতে পাই। যা আবহ
শুনতে পাবে না।

আবহের কথা তোমাকে বলা হয়নি। সে শান্তিনিকেতনে পড়তে এসে পাশ করে শান্তিনিকেতনেই থেকে গেছে। এখন সে ঘর ভাড়া করে থাকে ভুবন ডাঙ্গার পিছন দিকে। আর্থিক রোজগার বলতে,
ছেলে পড়ানো। সেই টাকাও যে সব সময় পায় এমনটা নয়। তার আরেকটা মারাত্মক নেশা, সাঁওতাল ছেলেমেয়েদের ডেকে ডেকে , লেখাপড়া শেখানো।

আবহর ছবি আঁকা মানে ছেলে মেয়েদের আঁকা শেখানো। নিজের জন্য অন্যকে দেখানোর জন্য সে আর ছবি আঁকে না।

আমি একবার তাকে কয়েকটা পোস্ট কার্ড দিয়েছিলাম ছবি এঁকে দেবার জন্য। এক মাস পরেও সে আমাকে শূন্য পোস্টকার্ড ফেরৎ
দিয়েছিল।

আমি তাকে আবার পোস্ট কার্ড গুলি দিয়ে বলেছিলাম--তোর কাছেই থাক। হয়তো কখনো
কোনো রাত্রিবেলায় কারোর উদ্দেশ্যে উড়িয়ে দিবি।
আমি দেখতে না পেলেও শুনতে পাবো উড়ে যাওয়ার শব্দ।

আবহর করুণ সুন্দর মুখ দেখলেই
তুমিও বিষণ্ণ হয়ে উঠবে। দেখো----

ইতি----
নির্মল হালদার
৬ আশ্বিন ১৪২৯
২৩---৯---২০২২
শুক্রবার
দুপুর--২--৮





পদ্ম ফুটছে শালুক ফুটছে---৮
--------------------------------------------

সোমজিৎ
শারোদৎসবের দিনে প্রথম আলাপ তুলিকার সঙ্গে। সে সেই প্রথম এসেছে বিশ্বভারতীতে।

তার গায়ের রঙ কালো। আমি প্রথম দিনেই তাকে বলেছিলাম,
তুইতো কৃষ্ণ কলি।
সে হাসতে হাসতে গানটা আমাকে শুনিয়ে ছিল দু' কলি।

প্রথম আলাপ। অথচ তার মধ্যে
কোনো আড়ষ্টতা ছিল না। আমরা
শারোদৎসবে না থেকে চলে গেছলাম চেনা চত্বরের বাইরে।

আমাদের গায়ে এসে পড়ছিল
শারদীয় আকাশের আলো।
আমি ছুঁতে গিয়ে কৃষ্ণকলির
হাত ধরেছিলাম।

সে চাইলো, বাদাম খেতে।

সেদিন কত রাত হয়েছিল মনে নেই। সে শুধু বলছিল, আর নয় আর নয়। হোস্টেলের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।
আমি তাকে বলতে পারিনি,
আমার যে দুয়ার খুলে গেছে-----

ইতি---
নির্মল হালদার
৮ আশ্বিন ১৪২৯
মহালয়া
২৫---৯---২০২২
রবিবার
সকাল---৮--১৭













রামানুজকে লেখা পত্র



এসো হাওয়া,আসন পেতেছি----১৭
--------------------------------------------------
রামানুজ
আজ এই পুরুলিয়া জেলাতে
জিতা ষষ্ঠি।জিতা ষষ্ঠি কি এবং কেন এই প্রশ্ন যখন জেগে উঠলো,
উত্তর খুঁজতে খুঁজতে জেনেছি,
জিমুত বাহন থেকে মানভূম তথা পুরুলিয়ার ভাষায় জিতা।
জিতা ষষ্ঠী বা অষ্টমী।

তোমাকে আর কি বলবো, তুমি তো জানো, আমাদের এই বঙ্গে অথবা পুরুলিয়াতে বারো মাস
নানাভাবে নানা রূপে শস্যের বন্দনা করা হয়। নিম্নবর্গের মানুষ যেমন করে থাকে তেমনি বাঙালি মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্তরাও করে থাকে।
আমি এখানে লোক ইতিহাস বলতে চাইছি না। বরং বলতে চাই,
গ্রামের এক বুড়ি মা রাস্তার ধারে বিক্রি করছে মাটির শেয়াল শকুনি।
এই জিতা ষষ্ঠীতে ব্রত উদযাপন শেষ হবে শেয়াল শকুনি জলে ভাসিয়ে।

আমার মনে পড়ছে, ছোটবেলায়
মা-জেঠি--খুড়িরা ছোটদের বলতো---তোরা যা শিয়াল শকুনি বানাবি---

আমরা ছোটরা খুব উৎসাহের সঙ্গে মাটি জোগাড় করে শিয়াল শকুনি গড়ে তুলেছি।

আজ তবে ছোটরা কি নেই?

যা ছিল একসময় খুশির খেলার মত পুতুল, সেই পুতুল আজ বাজারে।
তা আসুক। আমি চাইছি বুড়িমা
শেয়াল শকুনি বিক্রি করে দুটো পয়সা ঘরে নিয়ে যাক।

আজ বাজার থেকে তুমি ঘরে নিয়ে যাবে কি?

আমাদের বাজারে এখানে
শশা ১০০ টাকা কেজি। কারণ
এই জিতা ষষ্ঠিতে শশা লাগে।

এই দিনে আমি যদি শসার বীজ হয়ে উঠি?

ইতি----
৩১ ভাদ্র ১৪২৯
১৭--৯--২০২২
শনিবার
সকাল--৮--৫৮
নির্মল হালদার





এসো হাওয়া,আসন পেতেছি --৫৭

রামানুজ
আমার চিঠিতে ইতিহাস নেই। পুরাণ নেই। গ্রীকের ইতিহাস
ফরাসিদের ইতিহাস নিজের দেশের ইতিহাসও আমার চিঠিতে নেই। পাবেও না কখনো।

কারণ, আমি কিছুই জানিনা।

বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় যে সমস্ত শিল্প আন্দোলন হয়েছে, তাও আমার অজানা।
আমার কাছে এ বঙ্গের হাংরি আন্দোলন সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলে, আমি বলতে পারবোনা।

আমি শুধু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা, অনুভব অনুভূতির কথা তোমাকে শোনাতে চেয়েছি। তোমাকে শোনাতে চাইছি। এইসব কথাবার্তা তোমার কাছে কখনো যদি বিরক্তিকর ঠেকে, আমাকে জানিও।

আমার সব সময় ভয় করে, আমি কারোর বিরক্তির কারণ হয়ে উঠছি না তো? কারোর কাজ নষ্ট করছি না তো?

আমার স্মৃতি কথাতে তুমি পেয়েছো লালটু ও অবনীকে। কয়েকদিন হলো, তাদেরও মনে পড়ছে খুব। এই বয়সে যদি আরেকবার দেখা হতো তাদের সঙ্গে, আমরা নিশ্চয়ই স্কুল বেলার
কাছে চলে যেতাম।

কিন্তু তারা নেই। আমার কাছে শুধু হাহাকার।

পার্বতীদি ও মাধবীদি সম্পর্কে
আর দু একটা কথা বলতে পারি,
তারা দুজনেই বিয়ে থা করেননি।
পরে কি হয়েছে না হয়েছে, আমি আর খবর রাখিনি।
দুজনেই খুব আন্তরিক ছিলেন। দুজনেই ছাত্রীদের কাছে বন্ধু হয়েই থাকতেন।

তারা কলেজে থাকতে থাকতেই,
ক্ষমতায় এলো বাম সরকার। তখন ওই মহিলা কলেজে কোনো
ছাত্র ইউনিয়ন ছিল না।
ছোট ছোট বাম নেতার লক্ষ্য পড়লো, মাধবীদির দিকে। তার সম্পর্কে ছড়িয়ে পড়লো প্রচার,
তিনি কংগ্রেস মুখী। ফলে, বামেরা
তার সম্পর্কে ছড়াতে লাগলো কুৎসা।

তারপর তারপর তিনি তো চলে গেলেন পুরুলিয়া ছেড়ে। কলকাতার অন্য এক কলেজে।

এই দেশ এই বঙ্গ কে তুমিও চেনো। এখানে প্রকৃত মানুষের ঠাঁই নেই।

আমাকেও তো মাটি কামড়ে থাকতে হয়।


----নির্মল হালদার
----২৩ আশ্বিন ১৪২৯
-----১০---১০---২০২২
----সোমবার-----বিকেল--৫



আরও পড়ুন 








কাব্যকে লেখা পত্র




অপরাজিতার আকাশে-----৩
------------------------------------------

কাব্য
আজ মনে হচ্ছে, প্রতিদিন ভালোবাসাও শিখতে হয়। যেমন
এই শরতে আকাশের কাছেও
পাঠ নিয়ে থাকি, ভালোবাসাকে
কী করে বড় করতে হয়।

তোর কাছেও শিখতে হবে , কেমন করে ফোটাবো রামধনুর সাত রঙ।
মাঠে মাঠে শিশির না পেলে, তোর কাছে চাইবো চোখের জল।

তোর চোখের জলে সূর্যের কণা।

তোর চোখের জলে আনন্দ রশ্মি।

আমি চুপি চুপি দেখেছি।

ভালোবাসার কাছে শব্দ করতে নেই। ভালোবাসা পছন্দ করে নীরবতা।

তুই তো দেখেছিস, আম জাম
গাছে গাছে নীরব থেকে প্রেম ভালবাসা জানিয়ে থাকে।

আমার কান্না কখনো কখনো শব্দ করে খুব বেশি, এ কারণেই হয়তো
ভালোবাসা জুটলো না আজও।

ইতি----
৩০ ভাদ্র ১৪২৯
১৬---৯---২০২২
শুক্রবার
বেলা--১২--১০
নির্মল হালদার





 
গোধূলির দিকে। গোধূলি মায়ার দিকে----৫
-------------------------------------------------------------

কাব্য
তোর ঘরের জানালা থেকে
অনেকগুলো গাছ দেখা যাচ্ছে।
তারা নিশ্চয়ই তোর বন্ধু।

বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলিস তো সময়ে-অসময়ে? ওরাই তো প্রকৃত বন্ধু। তোর কাছে কোনো প্রত্যাশা না করে তোকে ভালোবেসে যাবে।

আলো ও আঁধারে।

ল্যাপটপের বোতামে আঙুল থাকে
তোর। আমি চাইছি, গাছের গায়ে গায়ে তোর আঙুলের স্পর্শ থাকুক।

দুজনেরই জেগে থাকা আমি দেখতে পাবো নিশ্চিত।

তোর জানালার বাইরে যে রাস্তা গুলি চলে গেছে , তাদের সঙ্গে কথা বলবি। পেয়ে যাবি নিশ্চয়ই
নতুন নতুন ঠিকানা।

প্রেমের আধার।

সেই আধারে ধরা থাকবে তোর হৃদয়।

তোর হৃদয়ের রঙে বীরভূমের মাটি আরো লাল হয়ে উঠবে।
প্রতিদিন ‌

ইতি---
৩০ ভাদ্র ১৪২৯
১৬---৯---২০২২
শুক্রবার
বিকেল--৫--৪১
নির্মল হালদার





ভাদ্র শেষ হয়ে গেল---৬
----------------------------

কাব্য
প্রেমের শেষ নেই। চন্দ্র সূর্যের মতো অন্তরে অন্তরে জ্বলতে থাকে।

ভালোবাসতে থাকে কখনো কাঠবিড়ালির মত। কখনো
কাকের মত। কখনো বা শালিক
চড়ুইয়ের মত।

টিয়া পাখির ঠোঁটের রঙেও
আমরা আমাদের প্রেম প্রতিষ্ঠিত করি। আমরা তাল খেজুরের গলায় বাঁধি হাঁড়ি।

প্রেম চাই।

প্রেম চাই বলেও প্রশ্ন জাগে,
আমাদের সমাজ-বাস্তবতায়
প্রেম আছে তো?

মানুষেরই অত্যাচারে প্রকৃতি ধ্বংস হতে হতে ফুরিয়ে এলো। প্রযুক্তির
পীড়নে পাখিরাও ক্রমশ শেষ। নদী পাহাড় জঙ্গল ও শেষের মুখে।

সেদিন তোদের বাড়িতে অনেক গাছপালা দেখে খুশিতে ভরে উঠেছে সবাই।

এরকম একটা বাড়ি তে শান্তির হাওয়া বইতে থাকে।

তুই নিজেও তো শান্ত এক ছেলে।
যে রাজার চিঠির অপেক্ষা না করে অসংখ্য চিঠি লিখে রাখে
তার মুখের অভিব্যক্তিতে।

তোর চোখের তলার লুকানো বিষাদে আমি কবিতা লিখতে চাই।

লিখতে দিবি তো?

ইতি---
৩১ ভাদ্র ১৪২৯
১৭---৯---২০২২
শনিবার
বেলা--১০--৩৩
নির্মল হালদার





আশ্বিনে বৃষ্টির শব্দ---১২
-----------------------------------

কাব্য
দ্বিপ্রাহরিক আহার হয়েছে নিশ্চয়ই। কম্পিউটার তো
মায়ের মত ভাত ডাল করতে পারবে না।
তোর চোখ মুখ শুকনো দেখালেও বলবে না-- কীরে আজ কী হয়েছে?

কী হয়েছে আমাকেও বলবি না তুই। শাদা শঙ্খর মত হেসে বলবি,
কই কিছু নাতো!

আমি চারদিকে হাৎড়ে বেড়াবো,
কোথায় তোর মন? কোথায় আহার?

আহ্লাদ আছে কি তোর? নিজের জন্য বিনোদন?
প্রেম-ভালোবাসা করেও বিনোদন করা যায়, আমার এ কথা মানবি তো তুই?

কাকে ভালবাসিস?

ভালোবাসার জন্য কাতর হয়ে আছে ছোট বড় পাথর। কাদামাটি। গুল্মলতা। আগাছাও।

আমিও আগাছা এই সমাজে।
জল দেবেনা কেউ।

তোর কাছে জল পাবার আশায়
তোর কাছেই পায়ের শব্দ করছি।

ইতি--
৩ আশ্বিন ১৪২৯
২০--৯--২০২২
মঙ্গলবার
বেলা--৩--১৩
নির্মল হালদার








কবি নির্মল হালদারের বিভিন্ন সময়ের ছবি

পড়ুন "ঘর গেরস্থের শিল্প"

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ