কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২২

হরিতকি গর্ভের আলোয়

হরিতকি গর্ভের আলোয়
-------------------------------------




প্রেম
--------

কার সাহসে মেঘ পাড়বো
মেঘ চাষী তো আমার সঙ্গে নেই।
আমার সঙ্গে বাথান মুটরুডি
চিপিদা টাঙিদা
গ্রামের পর গ্রাম আমার সঙ্গে থাকলেও
কার সাহসে বাদাম উপড়াবো?

বাদাম চাষী তো আমার সঙ্গে নেই।

-----৩০ আশ্বিন ১৪২৯
-----১৭---১০---২০২২
-----নির্মল হালদার




সকাল বেলা
-------------------

সারারাতের পিপাসা

সূর্য এসে নিবারণ করে সকালের শিশিরে

বেলা হলে পুকুরে নামে নদীতে নামে
স্নানও করে।
স্নান করতে করতে ছুঁয়ে ফেলে
জলের তলে পড়ে থাকা পাথর,

মাছের গা।

সূর্যের পরশে জ্যান্ত হয়ে ওঠে নদীর কল্লোল।

-----৩১ আশ্বিন ১৪২৯
-----১৮---১০---২০২২
----নির্মল হালদার




ঝিঙে ফুল
----------------

ঝিঙে ফুলের হলুদ ছিটকে পড়ে মাটিতে

আজ ১ লা কার্তিক
হেমন্তের শুরু
ধান পেকে উঠছে ক্রমশ

ওই ধান আমার ঘরে না এলেও
ধান পাকা হাওয়া আসবে
তুমিও আসবে রজনী

আবছা হয়ে যাবে ধানক্ষেতের সবুজ

আমি অন্ধকার হাৎড়ে খুঁজে বেড়াবো
জোনাকির ওড়াউড়ি।

২:

ঝিঙে ফুলের হলুদ আমার অঙ্গে অঙ্গে

আমিও লতায় পাতায়

সারারাত আমার কাছে ছিল নক্ষত্রের নিবিড়তা
সকালবেলা শিশিরের ছ্যাঁকা,

জেগে উঠেছি।

আমাকে খুঁজতে আসবে অবনীর মা

পাতার আড়াল থেকে আমি বলে উঠবো,
এইতো আমি এইতো----

রঙের কাঙাল।

-----১ লা কার্তিক ১৪২৯
-----১৯---১০--২০২২
-----নির্মল হালদার




মালা
--------

প্রতিটি শিশির ফোঁটা গেঁথে ফেলি

প্রতিটি শিশির ফোঁটা হয়ে ওঠে
শান্ত একটি মালা

সমর্পনেই খুঁজে পেয়েছে বন্ধন মুক্তি।

-----২ কার্তিক ১৪২৯
------২০---১০---২০২২
------নির্মল হালদার




এই সকাল
----------------
উড়তে উড়তে ফড়িংয়ের পায়ে লাগলো শিশির
সূর্যের কিরণ এসে পায়ে পায়ে ওড়ে।
সরষে ফুলের রেণু গরুর পায়ে পায়ে
শিঙেও লটকে গেছে।

কে পাঠালো এই সকাল?

আমি তো লিখিনি চিঠি আজকাল আর

আমার প্রেমের প্রস্তাব, নীরবে

চাঁদের কাছে শেষ রাতে।




লিখন
----------

তুমি না এসে
আমাকে পাঠালে চাঁদ
শেষ রাতে

চাঁদের গায়ে কী লিখবো?

আমি তো কানের লতিতে লিখতে চাই
একবিন্দু বৃষ্টি

আমার অস্থিরতা।

-----৩ কার্তিক ১৪২৯
-----২১---১০---২০২২
-----নির্মল হালদার




কাক
--------

বাসন মাজার শব্দ হলে উড়ে আসে কাক
এঁঠোকাঁটা পড়ে থাকলে কাকের আহার।
ও বড় বউ ও ছোট বউ
কাক আমাদের কুটুম না হলেও
কাকও একটা পাখি,

ভোরের মুখ।

এই মুখের দিকে চেয়ে ফুটে উঠছে,

লঙ্কা ফুল।

------৪ কার্তিক ১৪২৯
-----২২---১০---২০২২
-----নির্মল হালদার



 
এক নারীর একগুচ্ছ চুল থেকে
একটি চুল আলাদা করতেই,
একটি কালো রেখা।

যেন বা চিত্রকরের একটা টান।
পেন্সিলের টান।

এই রেখার দিকে চেয়ে
কবি রচনা করলেন একটি বিষাদের কবিতা।

হেমন্ত ঋতুর কবিতা।

-----৫ কার্তিক ১৪২৯
-----২৩---১০---২০২২
-----রাত্রি-৭---১২
-----নির্মল হালদার




নন্দিনী
-----------

হেমন্তের হিম ঝরা অন্ধকারেও মাছের খেলা

জলে জলে।

আমিও ঢেউ থেকে ঢেউ

আমিও আঁচল ছুঁতে চাই পাড় ছুঁতে চাই
আমি ডেকে উঠি: নন্দিনী নন্দিনী-----

আমার প্রতিটি ডাক হয়ে ওঠে নক্ষত্র।

---৬ কার্তিক ১৪২৯
----২৪---১০---২০২২
-----নির্মল হালদার




দৃশ্যের ভেতরে আরো দৃশ্য
---------------------------------------

বক এসে দাঁড়ালো নদীর পাড়ে

সূর্য এসে দাঁড়ালো নদীর পাড়ে

সূর্য তো স্নান করবে মাছ করবে শিকার

আর আমি বাবলা গাছে খুঁজবো রক্তের দাগ
বাবলা কাঁটা বিঁধেছিল আমার আঙুল
অথচ একটাও ফুল পাইনি

অবনীকে পেয়েছিলাম
চোর কাঁটার মত দাঁড়িয়ে ছিল,

নির্বাক।

-----৭ কার্তিক ১৪২৯
-----২৫---১০---২০২২
-----নির্মল হালদার




দ্বিপ্রহর
------------

রামানুজ একটা মন্দির পাঠালো
তার ঘন্টা ধ্বনিও শুনতে পেলাম
এই দুপুরে-----

পায়রার খিদেও শুনতে পাই।

খিদেও দেবতা এক
তার ভজনাও করি, পায়রাদের কাছে নিয়ে যাই
এক বাটি মুড়ি

দ্বিপ্রহরের রোদ স্তব্ধ হয়ে আসে।




ভালোবাসায় বেঁচে থাকা
------------------------------------

সারাদিন একটা ইশারা

একটি ইশারায় হাঁসের কোলাহল
মুরগির ডাক বাঁশ বনের হাওয়া
রাস্তা আসে রাস্তা যায়

সারাদিন একটি ইশারা

একটি ইশারায় পানকৌড়ির ডুব
গুগলি--শামুক পদ্ম বনের ডাক
মৌমাছি আসছে।

আজও রোদ আসছে

রোদ ঢুকে পড়ছে ঘরে ঘরে

গায়ের ঘাম নুনের জলে রোদ ভিজবে

আমাকে ভালোবেসে।

-----৮ কার্তিক ১৪২৯
-----২৬---১০--২০২২
-----নির্মল হালদার



 
সংসার
-----------

সংসার বলতে একটা ঘর
একটা জলের কলসি
জানালার ফাঁকফোকরে একটু আকাশ
একটা দুয়ারও আছে,

তুমি দাঁড়ালে হৃদয় দিব রাঁধিয়া।

-----৮ কার্তিক ১৪২৯
----২৬---১০---২০২২
----নির্মল হালদার




লাল-হলুদ গাঁদার আলিঙ্গনে
গোলমাল ক 'রোনা , চুপ করো।
লাল- হলুদ গাঁদার আলিঙ্গনে
সাত রঙের কিরণ

গোলমাল ক 'রোনা ,চুপ করো

রঙে রঙে বাতাসও ছুটছে

রঙিন ছুটছে

এসময় কথা ব'লোনা, এ সময়
লাল--হলুদ গাঁদার আলিঙ্গনে
ধুলোর সঙ্গে ধুলো হয়ে
আমিও চুপ

মিলনের মধু ঝরছে।

-----১০ কার্তিক ১৪২৯
----২৮--১০--২০২২
----নির্মল হালদার


                      আরও পড়ুন 








বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২

এই ক্ষয় হয়ে যাওয়া সময়ে



এই ক্ষয় হয়ে যাওয়া সময়ে
----------------------------------

রাত হয়ে গেছে।

কোনো কোনো ঘরে আলো জ্বললেও নিঝুম লাগছে চারপাশ।।

আকাশে মেঘের চলাফেরা। বৃষ্টি না হলেও বাতাসের শীতলতা।
এই মুহূর্তে আমি চাইছি না, ছেলেটি চলে যাক আমার বাড়ি থেকে। রাত অনেক হয়ে গেছে।
ছেলেটির মেস-বাড়ি অনেকটাই দূরে।
না গেলেই ভালো হবে। চিন্তা করছি আরও, ছেলেটি খাবে কোথায়? মেস--বাড়িতে রাতের খাবার রাখতে বলা হয়েছে তো?
এইসব সাত পাঁচ ভাবছি যখন,
ছেলেটি বললো, সে যাবেই। যত রাতই হোক অসুবিধে নেই।

আমি ভেতরে ভেতরে উদ্বিগ্ন। তাকে বললাম, তুই না গেলেই ভালো হবে। সে শুনবে না।
চলে যাওয়ার জন্য যখন দরজার কাছে, আমি জানতে চাইলাম, তোর টাকা লাগবে? সে বললো---হ্যাঁ।

আমি তাকে একশো টাকার একটি নোট দিতে গেলে সে আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে বলে----
আমাকে দশ টাকা দাও।
আমি সঙ্গে সঙ্গে জানতে চাইলাম,
দশ টাকায় কি হবে রে?

ডিমের ভুজিয়া।


ছেলেটির আরেকটি গল্প-------

ছেলেটি দরিদ্র ও মেধাবী।
হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করে সে
পুরুলিয়া শহরে এসেছে পড়াশোনা করার জন্য।
মেস-বাড়ির খরচ, টিউশনি খরচ, নিজের হাত খরচ করতে অনেকটাই টাকা লাগে। পরিবার থেকে কোনো টাকা পায় না সে।

ছেলেটি মাধ্যমিকে তাদের গ্রামের স্কুলে প্রথম হয়েছিল। কারো কারো নজরে এসেছিল সে । তখনই কোনো সংস্থা তাকে জানিয়েছিল, সে যদি কলেজে পড়তে চায়, খুব সামান্য হলেও তারা তাকে স্কলারশিপ দেবে।

তো স্কলারশিপ বাবদ এক হাজার টাকা পেয়ে থাকে প্রতি মাসে। এই এক হাজারে কোনো ভাবেই চলে না তার।

আমাকে বললো টিউশনি জোগাড় করতে। আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত অসামাজিক। আমি তাকে বললাম, দেখি অন্য কোনো ভাবে যদি টাকা জোগাড় করে দিতে পারি-----।

আমার এক বন্ধুনিকে বলতেই,
সে ৫০০ টাকা দিতে রাজি। কিন্তু টাকা তো লাগবে আরো। কাকে বলবো কাকে বলা যায় ভাবতে ভাবতে আরেক বন্ধুনিকে সমস্ত জানিয়ে সাহায্যের কথা বললাম। এই বন্ধুনিও আমাকে আশ্বাস দিয়ে বললো, সে এক হাজার টাকা প্রতি মাসে দু বছর দেবে।

এদিকে আরও দুটি ছেলে আমাকে বলেছে সাহায্যের জন্য।
এই দুজনও দরিদ্র মেধাবী। গ্ৰামের ছেলে।
শহরে থেকে লেখাপড়া করে।

সাহায্য করতে পারে ক্ষমতাও রাখে এরকম অনেক নাম মাথায় ঘুরলেও আমি আর কারোর কাছে আর্জি জানাই না।
সেই ছেলেটিকে বললাম, তুই তো
৫০০ টাকা বলেছিলি। শুরু করেছিস পেতে------তাহলে বাকি এক হাজার টাকা তোর দুই বন্ধুকে দিয়ে দিলে ভালো হয়। সে তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে গেল।

অথচ সে বলতেই পারতো --------
তুমি তো আমার জন্য টাকা চেয়েছিলে। আমি দেবোনা কাউকে।

আজকের দিনে এরকম ছেলে দেখা যায় না। যখন আমরা নিজের স্বার্থটুকু ছাড়া আর অন্য কিছু বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করি না, তখন এই ছেলেটি একটি দৃষ্টান্ত।

চেয়েছিলাম তো ওই ছেলেটির জন্য দুজনের কাছে দেড় হাজার টাকা। এখন সেই টাকা তিন জনে ভাগ করে নেবে।

ক জন ভাগ করে খায়?

চায়ের দোকানে চা-বিস্কুট খেতে গেলে কখনো কখনো চেয়ে থাকে দু একটি কুকুর।

ক'জন পেরেছি কুকুরকে বিস্কুট দিতে?

নানা হতাশা দুঃখ বিষাদের মাঝে
ওই ছেলেটি আজকের দিনে আমার মুখের সামনে হ্যারিকেন নিয়ে আসে।


------২২ আষাঢ় ১৪২৯
-----৭----৭----২০২২
-----নির্মল হালদার







ছবি : কল্পোত্তম










বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২

জামবাটি থেকে উছলে পড়া মাড়ভাত



জামবাটি থেকে উছলে পড়া মাড়ভাত
-----------------------------------------------

কথায় কথায় একদিন অসিত আমাকে বলছিল------মাহাতরা
সত্যি সত্যিই খুব গরিব। ঘরে শুধু ধানচাল থাকলে হয় না। টাকা পয়সা লাগেই।

অসিতের এই এত কম বয়সে এই বোধ আমাকে অবাক করেছিল।
আরো বলেছিল আমাকে , লেখাপড়া করতে গেলে আজকাল অনেক টাকা লাগে তা আমার বাবার নেই।

অসিতের কাছ থেকে এইসব কথাবার্তা শুনে কয়েক মুহূর্তের জন্য আমি বিষণ্ণ হয়ে গেছলাম।

আমি তো কারোর ভরসার জায়গা হতে পারি না। ভালোবাসার জায়গা হলে হতেও পারি। এবং সেই ভালোবাসা বন্ধুতার।

আমাদের অসমবয়সী বন্ধুত্বের দিকে অনেকে আঙুল তুললেও
আমার কিছু বলার নেই। কারণ,
আমি জানি বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই। আর তাই অসিত মিলন কিরাত সহজেই আমার বন্ধু হয়ে যায়।

অসিতদের গ্রাম সুজানডি আমি কবে গেছলাম? সুজানডি গেলেও
অসিতদের বাড়ি যাইনি।

একটা ছবি আঁকতে ইচ্ছে করে-----অসিতদের ঘরের চালায়
একটা লাউলত উঠছে।চালার মাঝে দেখাও যাচ্ছে একটা শিশু লাউ।
ওদের উঠোনে লাফাচ্ছে মুরগি ছানা। কোলাহল করতে করতে
হাঁসগুলি চলে যায় দুয়ার ছাড়িয়ে
রাস্তায়।
ওরা বাঁধের দিকে যাবে।
গোয়াল থেকে চলে যাচ্ছে গাই-গরু-বাছুর।ছাগল--ভেড়ার দল ও চলে যায় মাঠের দিকে।

রাঁধনা শালে কেউ নেই।হাঁড়িতে
ফুটছে চাল।

আমি ডাকছি-----অসিত অসিত
ভাতের গন্ধে আমার খিদে পেয়ে গেছে। তোর মাকে বল, আমাকে যেন খেতে দেয়।

আমার আঁকা ছবি এই অব্দি।
তারপর জানি না। তারপর জানিনা, অসিতের বাড়ি কবে যাবো।

অসিত আমাকে যদি নিয়েও যায়
তারপর যদি মাঝ রাস্তাতে ছেড়ে দেয়?
আমি একা একা কোথায় যাবো?

পিচাশিতে শ্রীনাথ আছে। যেতে পারবো তাদের বাড়ি? অথবা আরেকটা কাজ করতেই পারি,
কাঁসাই নদীতে নেমে বালির ঘর
গড়বো।

ডাকাকেঁদু এখনো যেতে পারিনি।
পিঁড়রা গেলেও মিলনদের ঘরে
এক মুঠো খেতে পারলাম কই?

তাদের সঙ্গ আমার মন ভরে দেয় অবশ্যই। আর মন ভরলে তো কিছুই চাইনা।

আপেল গাছের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ নেই। কালোআলো ছেলেরাই আমার আপেল আঙুর
পেয়ারা। আমার কুল।কুসুম।কচড়া।
ওদের হাসি আমার কাছে জামবাটি থেকে উছলে পড়া মাড়ভাত।

অসিত চুপচাপ। কিছুই না বলে আমার দিকে চেয়ে আছে।

আমিও ওর দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে একটা অশথ পাতা কুড়িয়ে বাঁশি বাজাই।

অশথ পাতা কোত্থেকে উড়ে এসেছে? গাছটি কোথায়?
অসিত কোত্থেকে উড়ে এসেছে?
বীজটি কোথায়?

অসিতের বাবার সঙ্গে আলাপ করবো। তার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে চেয়ে ফেলবো----
অসিতদের ঘরের এক মুঠো ধান।

প্রতিটি ধান অসিত। প্রতিটি ধান
অসিতের শ্বাস-প্রশ্বাস। আমার সঙ্গে থাকবে।

অসিতের শ্বাস-প্রশ্বাস ধরে ধরে
অসিতের কাছেই আমি ঘুরে বেড়াবো।


-------২১ আষাঢ় ১৪২৯
------৬----৭----২০২২
-----নির্মল হালদার





















ছবি : সংগৃহীত













মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০২২

সুজল একটি ফুল



সুজল একটি ফুল
----------------------

পেঁড়রা গ্রামটি আমি দেখি নাই।
পেঁড়রাতে বাঁশের ঝাড় আছে কিনা আমার জানা নেই। পলাশ ও শিমুল, শাল ও কুসুম আছে কিনা আমার জানা নেই।

আমি জানিনা, পেঁড়রার দুয়ারে দুয়ারে আম পল্লব আছে কিনা।
আমি জানিনা, পেঁড়রা গ্রামে ক' টি
বাঁধ আছে।

ধান ক্ষেতের পাশেই কি খেজুর গাছ আছে? শিব মন্দির কতদূর?
হরি মন্দির কত কাছে?

পেঁড়রা যেতে হলে বাস পাবো?
বাস যদি না থাকে সাইকেল কিংবা বাইক।

আমাকে কে নিয়ে যাবে?

পেঁড়রা আমার যাওয়া হবে না।
যা মনে হয় আমার। তবে কার কাছে যাবো?

সুজলের সঙ্গে আলাপ পরিচয়ের সূত্রে সুজলের কাছে যাওয়া যেতে পারে।
সুজল তো কাছেই থাকে।

সুজল একটি ফুল। ফুটফুটে।
ভোরের আলোর মতোই সৌন্দর্য তার। সে হাঁটলে সুগন্ধ ছড়ায়। এবং যে পথে হাঁটে সেই পথ জড়িয়ে ধরে তার পা।

পা থেকেই তো শুরু হয় সৌন্দর্য।

পায়ের দিকে চেয়ে থাকে ধুলোবালি। আকাশ ও পায়ের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে ভাবে,
সে কেন পথ হলোনা?
পথ হলে, সুজলের পায়ে পায়ে
হেঁটে যাওয়া। আকাশ ভাবে, সে তবে ধন্য হয়ে যেতো।

কোনো কোনো লতাপাতা তাকে জড়িয়েই থাকতে চেয়েছে। তার
ভালোবাসার কাছে প্রতিষ্ঠা চেয়েছে।

সুজলের কাছে ঠাঁই পেতে সবাই আগ্রহী।

কার কার ঠাঁই হয়েছে?

সুজলের কাছে মৌমাছিরা যায়।
আলো বাতাস যায়। হৃদয় যেতে যেতে হোঁচট খেয়ে পড়ে।কোনো
হৃদয় আবার সুজলের কাছে খুব প্রিয়।

সেই হৃদয় কোথায় থাকে?

সুজল কোথায় থাকে?

সুজলের কাছে যেতে হবে।

সুজল একটি ফুল। সুগন্ধময়। অনন্য।


--------২০ আষাঢ় ১৪২৯
--------৫----৭---২০২২
-------নির্মল হালদার










ছবি : সংগৃহীত













কবি নির্মল হালদারের বিভিন্ন সময়ের ছবি

পড়ুন "ঘর গেরস্থের শিল্প"

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ