শুক্রবার, ৬ মে, ২০২২



পাঁচ বছরের পূর্ণতা ----- পালকের জন্মদিনে
-------------------------

দেখতে দেখতে আমাদের পালক
পাঁচ বছর পূর্ণ করলো।
কত কান্নাকাটি কত আবদার
কত চকলেট কত ক্যাডবেরি
কত কুরকুরে কত খেলনা

ভাতের পরে পান চাই।

আমারও অভ্যেস হয়ে গেছে,
আমারও ভাতের পরে পান চাই।
তো, পান কিনতে গেলে পালকের
জন্য দোকানির কাছে একটা পান পাতায় মিষ্টি পান মশলা দিয়ে 
মুড়িয়ে নিয়ে আসি।

আমি তাকে পান দিতে ভুলে গেলে
সে আমার কাছে এসে বলবে------
আমাকে পান দাওনি আজ।

রং পেন্সিল শেষ হবার আগেই
আমার কাছে তার আবদার,
কিনে দাও। পরে কিনে দেবো বললে শোনে না।
যদি বলি, পয়সা নেই। শুনবে না সে।

কোনো কোনোদিন বাজার যাওয়ার আগে পালকের কাছে
জানতে চাই------তোমার জন্য
কি নিয়ে আসবো বলো?

মর্জি মতো তার পছন্দের কিছু না কিছু নিয়ে আসতে বলে। কোনোদিন আমার সঙ্গে যায়।
দোকানে গিয়ে আঙ্গুল বাড়িয়ে দেখায়------ওইটে-----ওইটে----।

আমি চায়ের দোকানে ঢুকলে
সেও কখনো কখনো চায়ের আবদার করে। এবং চা যতক্ষণ না ঠান্ডা হচ্ছে আমাকে চুপচাপ বসে থাকতে হবে।

আমার শহরে "এম বাজার"নামে
একটা দোকান আছে। মজা করেও যদি বলি, এম বাজার যাচ্ছি , সে আমার সঙ্গে যাবেই।
কারণ, লম্বা-চওড়া দোকান 
সে দৌড়ে বেড়াবে।
নিজের আবদারটিও ভুলবে না।
জামা প্যান্ট অথবা ব্যাগ কিংবা পুতুল কিনে দিতে হবে।

এই পালক‌ আমার পালক।

আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠছে।
হঠাৎ দেখবো আমি তার নাগাল পাচ্ছি না। 
তার হাত ধরেই আমি হয়তো
রাস্তা পার হয়ে যাবো।

সেইতো জীবনের সৌন্দর্য।

আমি চেয়ে থাকবো।

প্রতিদিন সকাল কিংবা সন্ধ্যেবেলা
পালক আমার স্মার্টফোন নিজের কাছে আঁকড়ে কার্টুন দেখবে।

আজ যখন বড় হয়ে উঠছে সে,
আমাকেও দেখবে নিশ্চয়ই ‌।
মাথা উঁচু করে তালগাছ যেমন দেখবে, আমাকেও দেখবে। এই আশাতে আমার সকাল হয় ‌
সন্ধ্যে হয়। রাত্রি আসে।

আমি পালকের কাছে যাই।
তার কপালে স্নেহ--চুম্বন রেখে
তাকে শুভ রাত্রি জানাই।

দুপুরেও ভাত খাওয়ার আগে
পালকের মুখে আগে দেবো
তারপর নিজে খাই।

তার খাওয়া মানে আমারই খাওয়া। আমারি আনন্দ।

আমার সমর্পণ।

ছোট ছোট পায়ে সিঁড়িতে উঠে
আমাকে ডাকছে সে-----------
ডোডো দাদু------ডোডো দাদু----

সূর্য তারার হাসির মতো এই ডাক
আমাকে আলোকিত করে।

কোলে-কাঁখে আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠলো পালক।
সে কি আর আইসক্রিম খেতে চাইবে না? লিচু ড্রিঙ্কস?
শীতল পানীয়ের দিকে তার ঝোঁক। দেখা যায়, দুদিন পরেই
গলা ধরে গেছে ‌। মৃদু জ্বর।
ডাক্তারের কাছে ছুটতে হয়। তখন
আমার মন খারাপ করে।
একটা দৌড়ঝাঁপ করা শিশু শান্ত হয়ে গেলে, চুপচাপ হয়ে গেলে,
আমাকে ঘিরে ধরে বিষণ্নতা।
তখন মনে হয় কত তাড়াতাড়ি সে
সুস্থ হয়ে উঠবে।
তার মুখ দিয়েই তো বাঘ সিংহ হাতি ঘোড়া এবং জিরাফ ভাত খায়। তারপর পালক। তার ও পরে আমি খাই।

পালক বড় হয়ে উঠছে।
কত বড়?
এই ২৪ বৈশাখ পাঁচ বছর পূর্ণ করলো সে। বৈশাখের আকাশ
তার অসীমতা দিয়ে পালককে
আশীর্বাদ জানাবে নিশ্চয়ই।

গাছপালার স্নেহ পালকের সঙ্গে সঙ্গে আছে।জানি। আরো জানি,
পাখিরা তাদের ডানার আড়ালে
পালককে রেখে ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচাবে। কখনো কখনো ঝড় বৃষ্টির মধ্যে ছুটে যেতেও বলবে নিশ্চিত। কেননা, সে জানবে
ঝড় কী। বৃষ্টি কী।

ঝড়ের মাথায় প্রদীপ জ্বালিয়ে
পালক যে যাবে অনেক দূর।


------নির্মল হালদার






































ছবি : সন্দীপ কুমার ও অন্যান্য











বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০২২

আমার নিশান ওঠে পুবদিকে



গণতন্ত্র
---------

পতাকা উড়তে উড়তে
ন্যাংটো শিশুর গায়ে এসে পড়লো

স্বাধীনতার মত।

গণতন্ত্রের মত।



হত্যাকাণ্ড নির্মাণ
----------------------

বুয়ান পাতা জ্বালিয়ে দিলে
মশা মাছি চলে যায়।

মানুষকে জ্বালিয়ে দিলে
কাছে এসে দাঁড়ায়,

জলভরা মেঘ।




সংবিধান
------------

কত যোগ বিয়োগ কত গুন ভাগ

ইঁদুর চিনলে,
সংবিধানের পাতা ছিঁড়ে কুটি কুটি।


-------১৯ বৈশাখ ১৪২৯
------৩----৫-----২০২২




অধিকার
------------

অধিকার না--ফলালেও একটা আকাশ

অধিকার থাকলেও
১০০ দিনের কাজ নাই।




ধর্ষণ
-------

পাহাড়ের  কোলে--কাঁখে অনেক গাছপালা

এই আমার দেশ

মহাভারত।

বস্ত্রহরণের পরেও বস্ত্রহরণ

লুকিয়ে পড়ে তুলসী গাছ।




আদিবাসী
-------------

মাথায় কাঠের বোঝা

পাহাড় থেকে নামছে।

মাথায় কাঠের বোঝা

আমার আদিবাসী ভারত বর্ষ।


--------২০ বৈশাখ ১৪২৯
-------৪-----৫-----২০২২



বটের ঝুরি
--------------

বটের ঝুরি নিচে নামছে।

মাটির গভীরে অনেক রকম খাদ্য।

প্রতিদিন চুরি হয়।

পেটভর্তি লোকেরা চুরি করে।



২:

বটের ঝুরি মাটি ছোঁবেই।
মাটি ছুঁয়ে ছুঁয়ে পা--কে ছোঁবেই।

প্রণাম।

এই বাংলার এইতো রীতি।


-------২১ বৈশাখ ১৪২৯
------৫----৫----২০২২
------নির্মল হালদার













কবি নির্মল হালদারের গদ্য



ব্রহ্ম বিদ্যালয়//


সকাল হলেই পুকুরে যাওয়া।
কোনো পায়খানা বা বাথরুম নেই।
মনোতোষের অভ্যাস ছিল না
ফাঁকা মাঠে প্রাতঃকৃত্য করবে।
তাদের বাড়িতে বেশ বড় বড় বাথরুম। পায়খানা।
এই আশ্রমে কিংবা বিদ্যালয়ে এসে সে দেখে, শুধু থাকার ব্যবস্থা। একটুখানি শোবার জায়গা।
সব ছেলেকেই সকালবেলা
মাঠে যেতে হয়। খালি পায়ে।

মনোতোষের মায়ের ইচ্ছে ছিল না,
কলকাতা থেকে এত দূরে ছেলেকে পড়তে পাঠানো। তার বাবাকে গুরুদেব নাকি অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর আশ্রমে পাঠানোর জন্য।
স্কুল কলেজের পড়াশোনাতো
এদেশে একটা বদ্ধ ঘরে। এখানে কিন্তু এই শান্তিনিকেতনে আশ্রমিক পরিবেশ। খোলামেলা হাওয়ায় আকাশের নিচে গাছ তলায় পড়াশোনা।

তেমন কোনো বিধিনিষেধ নেই।

মনোতোষকে আসতেই হয়েছে বাবার জন্য।
প্রথম প্রথম তার কষ্ট হয়েছে খুব।
ঘরে আলো নেই হাওয়া নেই।

লন্ঠন জ্বালাতে হয়। আরো কষ্ট হয়, ভোরে ওঠা। সকাল হলেই ছুটে যাওয়া।

গাছ তলে লেখাপড়া।

তাদের ক্লাস নিতে গুরুদেব কখনো কখনো। তিনি যেভাবে পড়ান, বুঝতে অসুবিধে হয়না।
বিশেষ করে কবিতা যখন পড়ান,
তাঁর কন্ঠ থেকে শুনতে ভালো লাগে খুব।
ইংরেজি কবিতাও পড়িয়ে থাকেন।

মনোতোষ ইংরেজিতে কাঁচা ছিল।
আশ্রমে এসে তার কাছে অনেকটা সহজ হয়ে গেছে।
তিনি একদিন ছেলেদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কে কে কবিতা লেখো? কে ছড়া লেখো?

সব ছেলেরাই চুপচাপ ছিল।

কয়েকদিন বাদে মনোতোষ 
'তালপুকুর' নামে একটি পদ্য লিখে নিয়ে গেছলো। তা দেখে গুরুদেব খুব খুশি হয়েছিলেন। বলেছিলেন------তোর এই কবিতা চর্চা ছাড়িস না।

মনোতোষ নিজেদের বাড়িতে থাকতেই শুরু করেছিল লেখালেখি। ছড়া লিখতে পছন্দ করে খুব। তাল পুকুরে গেলেই 
কত যে কবিতা মনে পড়ে যায়।

তালপুকুরেইতো হাঁস গুলি করে কোলাহল।তার নিজেরও ইচ্ছে করে হাঁসের সঙ্গে সাঁতার কাটতে।

আশ্রমে এসে মনোতোষ গাছে ওঠা শিখেছে। একটু - আধটু সাঁতার। চিনতেও শিখেছে ফুল ফল। পোকামাকড়। কীটপতঙ্গ।
গাছপালা।

আশ্রমে একজন মাস্টারমশাই আছেন বিকেল হলেই তিনি ছাত্রদের নিয়ে বেড়াতে বেরোন।

বেড়াতে বেড়াতেই তিনি গাছপালা চেনান। আঙুল বাড়িয়ে দেখিয়ে দেন কাঠবিড়ালির লাফালাফি।

আরেক মাস্টারমশাই আছেন তিনি গুরুদেবের গান শেখান।
মনোতোষের প্রিয় গান-----------

আকাশ ভরা সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ

সে যখন তখন যেখানে সেখানে
মনে মনে গেয়ে ওঠে। বাড়িতে একবার মায়ের কাছে শুনিয়েছিল গানটি। আড়াল থেকে শুনে
ফেলেছিলেন তার বাবা। তারপরেই তার বাবা মনে করেন,
ছেলেকে ঠিক জায়গায় পাঠিয়েছেন।

ছেলে বড় হয়ে উঠছে ভরা প্রকৃতির মধ্যে। আলো বাতাসের মধ্যে। তার সঙ্গে গুরুদেবের স্নেহ মমতা।
মনোতোষরা সবাই একসঙ্গে ফুটবল খেলায় জিতে গুরুদেব কে প্রণাম করতে গিয়েছিল। তিনি সবার হাতে লজেন্স দিয়েছিলেন।
মনোতোষকে বলেছিলেন, ফুটবল নিয়ে একটা কবিতা লিখতে হবে।

মনোতোষ লিখতে পারেনি। সে বরং লিখেছিল গরুর গাড়ি নিয়ে।
তাকে নিয়ে তার বাবা যখন প্রথম
বোলপুর স্টেশনে নেমে গরুর গাড়িতে ওঠেন।
মনোতোষের মনে দোলা লেগেছিল।
সেই থেকেই গরুর গাড়ির প্রতি
তার দুর্বলতা। কেমন ধীরে ধীরে চলে ----------ঢিকির -----ঢিকির-------।

ছন্দের মতো শুনতে লাগে।

গরুর চোখের দিকে তাকালে
মনোতোষের মন খারাপ হয়।
গরুর চোখ কী করুণ।

ভুবন ডাঙ্গায় চরে বেড়ায় গরু।

গ্রীষ্মকালে গরুরা জল পান করে
ভুবন সায়রে।সেও কখনো কখনো সায়রের দিকে চলে যায়।

সায়রের জলে মসজিদের ছায়া।

মনোতোষ খুঁজে বেড়ায় মাছ।
মাছের চঞ্চল খেলা ভারী ভালো লাগে তার।
ফুটবল খেলাও খুব প্রিয়। খেলতে খেলতে সে একবার চোট পেয়েছিল হাঁটুতে। খবর পেয়ে
তার বাবা নিয়ে চলে গেছলেন
বাড়িতে।

মনোতোষের মন ছটফট করছিল
আশ্রমের জন্য।
কলকাতায় ভিড় খুব। সব সময় চিৎকার চেঁচামেচি। 
আজকাল আর মনোতোষের মন
টেঁকেনা।

আশ্রমে থাকলে লেখাপড়ার পাশাপাশি গাছের ছায়া জড়াজড়ি করে থাকা। বন্ধুদের সঙ্গে থাকা।
প্রজাপতির পিছনে পিছনে থাকা।

হঠাৎ হঠাৎ গানের সুর ভেসে এলে
মনোতোষ সুরের হাওয়ায় ভেসে বেড়াতে বেড়াতে কোনো গাছের নিচে দাঁড়ায়।
নিজেকে মনে হয় ডাকঘরের অমল। 

গুরুদেব একদিন তাদের পড়াতে এসে অমলের কথা বলছিলেন। তারপর তো আরেকদিন, গুরুদেব নিজে ডাকঘর পড়ে শুনিয়েছিলেন। 

মাঠ থেকে ফিরতে ফিরতে মনোতোষ রাস্তায় দেখছিল, তিন-চারটে ছাগ শিশু ছাগলের দুধ পান করছে।

আস্তে আস্তে উঠে পড়ছে সূর্য।


------৬ বৈশাখ ১৪২৯
------২০----৪----২০২২ 




হাতি পুকুর//


বুধবার ছুটির দিন।

দেবাঞ্জন হোস্টেল থেকে বাইরে এসে ঘুরে বেড়ায়। যদিও তাদের ছোটদের জন্য নানারকম বিধি নিষেধ, তবু সে স্কুলের চৌহদ্দীর মধ্যে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে।

আজও দুপুরের খাওয়া-দাওয়া করে সে এদিক-ওদিক ঘুরতে ঘুরতে একটা টগর গাছের কাছে দাঁড়ায়।

একটাও ফুল নেই।

টগরের আঁকাবাঁকা ডালে, শুকনো ডালে উঠে বসলে কেমন হয়?
দেবাঞ্জনের ইচ্ছে করলেও সে আর টগর তলায় দাঁড়ালো না। সে
গাঁদা ফুলের গাছ খুঁজছে।
তার প্রিয় ফুল।

গ্রামের বাড়িতে থাকলে সে প্রতিদিন মায়ের পুজোর জন্য
ফুল তুলে দেয়। আর তাদের ঘরের উঠোনে দেদার গাঁদা ফুল।
তার মা কি সুন্দর মালা গাঁথে।

পরশু শুক্রবার তার জন্মদিন।
মা-বাবা দুজনেই পোস্টকার্ডে 
লিখেছে------- বাবুসোনা,
জন্মদিনে এসো। তোমার জন্য পায়েস রাঁধবো।

কী করে যাবে সে! তার যে পরীক্ষা।

ঘুরতে ঘুরতে সে এসে পড়েছে
হাতি পুকুরে। সে যতবার এখানে আসে ততবার ভাবে, হাতি টা কোত্থেকে এসেছিল? কী করে 
পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে?

এই যে এখন হাতির পিঠে একটা কাক। কেবল সামনের দিকে পিছনের দিকে মুখ ঘুরিয়ে কি যেন দেখে। সেওকি হাতির পিঠে চড়ে কোনো দূর দেশে চলে যাবে?

হাতির শুঁড়ে লটকে আছে শুকনো পাতা। পুকুর জলে ভেসে ভেসে যায় পাতারা।

হাতি সব দেখে। কাউকেই কিছু বলেনা। দেবাঞ্জনের মনে সাধ জাগে , সেও হাতির পিঠে চড়ে
মায়ের কাছে যাবে।

অবাক হয়ে যাবে মা।

বন্ধুদের ডেকে ডেকে হাতির পিঠে চড়তে বলবে। সে হাতিটার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে------
আমার বন্ধুদের পিঠে নেবে তো?

ধুতি পাঞ্জাবি পরা একজন এসে
দেবাঞ্জনকে দেখে জানতে চান,
এই দুপুর বেলা কি করছে সে?
দেবাঞ্জন চুপচাপ থাকে।
ধুতি পাঞ্জাবি পরা একজন তাকে চুপচাপ দেখে তার কান ধরে বলেন-------চল তোকে অফিস ঘরে নিয়ে যাবো। তখনই একজন সুদর্শন ব্যক্তি এসে দাঁড়ান হাতি পুকুরে। তিনি ধুতি-পাঞ্জাবি পরা 
একজনকে বলেন------শিশুর কান ধরবেন না। বরং কান না ধরে
তার বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন।

দেবাঞ্জন এই সুদর্শন ব্যক্তিকে চেনে। মাঝে মাঝে তাদের ক্লাস নিতে গাছ তলায় হাজির হয়ে থাকেন। 
দেবাঞ্জনের সাহস এলো মনে। সে
সুদর্শন ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে
বলে উঠলো--------তুমি আর আমি চলো----হাতির পিঠে চড়ে বসি--------

সুদর্শন ব্যক্তির হাসি ছড়িয়ে পড়লো পুকুরের জলে। নড়েচড়ে উঠলো শ্যাওলার দল।

পানাফুল।


------১১ বৈশাখ ১৪২৯
-----২৫---৪-----২০২২
------নির্মল হালদার













আঁকাবাঁকা শিকড়ের ছায়া



ভুট্টা
-------

পুরনো ভুট্টা টাঙ্গানো আছে ঘরের মাচায়

ভুট্টা জড়ো করাও আছে ঘরের কোণে

চাল বাড়ন্ত হলে সেদ্ধ করা হবে
ভুট্টার দানা

সকালের আহার।

হাওয়া আসবে পাখি আসবে 
আহারে মুখ রাখতে।


২:
ভুট্টা টাঙানো আছে ঘরের মাচায়
যেন পুরনো আত্মীয়রা ঝুলছে,

নীরব--নিঃশব্দ।

কোনো প্রত্যাশা নেই, শুধু দেখা
ঘরের সুখ দুঃখ ঘরেই আছে

ফাঁকা মেঝেতে পিঁপড়ে আসছে এখনো।



কুয়ো---কাঁটা
----------------

কত কান্না কত কথা
কত হাসাহাসি
গোপনীয়তাও আছে, আছে মুখের ছবি

উঠে আসে না।

কেবল ভাঙ্গা বালতি উঠে এলো
ছেঁড়া গামছাও উঠে এলো
মলিন মুখে উঠে এলো প্লাস্টিকের পুতুল।

শুধু কুয়ো --কাঁটায় উঠে আসে না,
মাঝলা বউয়ের নাকের নোলক।


------৬ বৈশাখ ১৪২৯
-----২০----৪----২০২২



উৎসর্গ
---------

ঘরে যা হয় যেটুকু হয়
দেবতাকে উৎসর্গ করবে।
ঘরের গাইয়ের দুধও
শিবের মাথায় ঢেলেছে।

কমলা আজ দেখতে পেয়েছে
ঘরের মাচায় একটি লাউ।
সেও দিয়ে আসবে মন্দিরে
তারপর পান করবে জল।

কমলা জানে,
জল আসছে অনেক দূর থেকে
তার নামেও এক ঘটি জল
উৎসর্গ করেছে কেউ।



ভিক্ষার ঝুলি
----------------

গামছায় বাঁধা হারমোনিয়াম গলায় ঝুলছে

হরিনাম করতে করতে
এক দুয়ার থেকে আরেক দুয়ার
একমুঠি ভিক্ষার সঙ্গে একমুঠি হাওয়া

ভিক্ষার ঝুলিতে গুনগুন করে।

হরিনাম করতে করতে
এক দুয়ার থেকে আরেক দুয়ার
হরি সুধা হরি ক্ষুধা

ভিক্ষার ঝুলিতে গুনগুন করে।


----৭ বৈশাখ ১৪২৯
----২১---৪---২০২২



শক্ত
------

ছেঁড়া ট্যানা আরো ছিঁড়ে গেলেও
কোমরে শক্ত করে বাঁধা।

কোমর ও শক্ত

অনেক বঞ্চনা পার হয়ে যেতে হবে।



শুশ্রূষা
---------

শাল গাছ  বড় গাছ

তুলসি গাছ ছোট হলেও একটি গাছ

তার মৃদু হাওয়ায় শুশ্রূষা আসে।



বাঁশ গাছ
------------

একটা মাঠে একটা শাল গাছ

একটা ঝাড়ের মধ্যে একটা বাঁশ গাছ,

যৌথতায়।


-------৮ বৈশাখ ১৪২৯
-----২২----৪-----২০২২



চরে বেড়ায়
---------------

বছরে কত ধান পায়
বছরে কটা কাপড় পায়
বাগালের ঘর কত দূর
কে আর খবর রাখে!

সবাই শুধু দেখে
বাগালের সঙ্গে চরে বেড়ায়
বৈশাখ থেকে বসন্ত
শাদা--কালো থেকে রঙিণ ঋতু।



পাহারা
---------

ছেলেরা গেল শহরে কাজ করতে

ঘরে আছে বুড়ি ঠাকুমা।

সেই যাবে মাঠে
সঙ্গে ছাগল---ভেড়ি

পাহারা দিতে দিতে ঝিমিয়ে পড়ে
গাছ তলায় ঘুমিয়ে পড়ে

একটি তারার পিছনে আরেকটি তারা ছুটে গেলে
লাঠি দেখায় বুড়ি।


------৯ বৈশাখ ১৪২৯
-----২৩-----৪----২০২২



কেঁদ
--------
কেঁদ পেকে গেছে

মুঠিতে ধরার মত রূপ

আনন্দরূপ।

ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কেঁদ পাড়তে যায়

জঙ্গলে জঙ্গলে।



তামার পয়সা
-----------------

হাঁড়িতে আছে ধান
অনেককালের ধান
আছে তো আছেই এক কোণে

ঘাঁটতে ঘাঁটতে 
পেলে পেতেও পারে
একটি তামার পয়সা

একটি ছেঁদা পয়সা

পুরনো দিনের সম্পর্ক।


------১০ বৈশাখ ১৪২৯
------২৪----৪----২০২২



বিড়ি
-------

বিড়ি বাঁধতে বাঁধতে মুখে রক্ত উঠে এলো

রক্তের দাম ১৫৭ টাকা

সারাদিনের মজুরি।


২ :
কেঁদ পাতায় দোক্তা বেঁধে বিড়ি

এক থেকে একশো

হাজার হাজার বিড়ি জ্বলে উঠলেও
অভাবের চুলা জ্বালাতে পারে না।


-------১১ বৈশাখ ১৪২৯
-------২৫-----৪-----২০২২



ইঁটভাটা 
----------

সংসারের বোঝা সংসারে রেখে,
মাথায় রোদের বোঝা তুলে,
কাজের বেলার দিকে-----

মাথায় আরো উঠবে ইঁটের বোঝা।



২:

মাথায় মাথায় কাঁচা ইঁট চলেছে
ভাটার দিকে।

পুড়তে পুড়তে,

মালিকের চোখের মত লাল হয়ে উঠবে।


-------১২ বৈশাখ ১৪২৯
------ ২৬----৪----২০২২



বাঁশের কাজ
----------------

একটা কুলা তৈরি করতেও মেহনত লাগে

বাঁশের সঙ্গে বাঁশের বিনুনি
কঠিন কাজ

একটা ঝুড়ি তৈরি করতেও সময় লাগে

বাঁশের সঙ্গে বাঁশের গিঁট
গাঁট ছড়ার মতই

একটা কুলা হলে এক কুলা ধান

একটা কুলা হলে এক কুলা বৃষ্টি

দুধের শিশুর মত লাফাবে।



২:

বাঁশের ছাল তুলে অনেক কুচি

বাঁশের কুচির বাঁধনে একটা ঝ্যাঁটা।

ঝ্যাঁটাতো বানাতেই হবে,

ঘরে ঘরে যে আবর্জনা।


------১৩ বৈশাখ ১৪২৯
-----২৭----৪-----২০২২



কামার শালা
----------------

মাটি পিটলে মাটিই থাকে।

মানুষ পিটলে মানুষই থাকে।

লোহা পিটলে একটা ফাল।

এ ফোঁড় ও ফোঁড় করবে জমি।

তারপরেই কামারের কাছে,

একটা হাঁসুয়া।




কুমোরের ঘর
-----------------

মাটি কম পড়ছে কুমোরের চাকায়

মানুষও কম পড়ছে

পুরনো একটা হাঁড়ি গড়গড়ায়।

------১৪ বৈশাখ ১৪২৯
------২৮----৪-----২০২২



কচড়া
---------

ঝিনুকে ছুলছে কচড়ার ছাল

কচড়ার আগে মহুল ছিল। 
গন্ধ ছড়িয়ে ছিল। 

মহুল ঝরেও গেছে। 

আজ এসেছে ফল, 
কচড়া। 

আজ তিন পাত কচড়া দশ টাকা
আজ তিন পাত ঘাম, 

এই বাজারে। 



মেরামতি
------------

জুতোয় পেরেক ঠুকে কপালে পেরেক ঠুকলো

শব্দ হলো আকাশে।

জুতো সেলাই করতে করতে
ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ মেরামত করবে,

নাগেশ্বর রুহিদাস।


-------১৫ বৈশাখ ১৪২৯
------২৯----৪-----২০২২



আলো
---------

লম্ফর তলা ছেঁদা হয়ে গেলে
আরো আলো খুঁজে বেড়ায়,

অন্ধকারের মা।

জোনাকি খুঁজে বেড়ায় ছেলেমেয়েরা।




খরা
------

ধূলা উড়ছে
নদীনালা পুকুরে

ধীবরের জাল লাফিয়ে উঠলো আকাশে

শুকনো খটখটে আকাশ
একটিও তারা নেই।


------১৬ বৈশাখ ১৪২৯
-----৩০----৪----২০২২



পান
-----

আঙুলে লটকানো চুন
জিভে ঠেকাবার আগে
হাত থেকে পড়ে গেল পান

ছড়িয়ে পড়লো সুপারি খয়ের

মাছি এসে বলে : রস নাই

রস নাই।




লাঙ্গল
---------

লাঙ্গলে মরচে পড়ে না।

লাঙলে লেগে আছে সন্তানের প্রথম কান্না।


--------১৭----৫----২০২২
------১----৫----২০২২



দুপুর
-------

ভরদুপুরে কপাট খোলা থাকলেও
ঘরে কেউ নেই, মেয়ে মরদ 
কাজে গেছে সবাই।

রেখে গেছে বাসি হাঁড়িয়ার গন্ধ।



গরু
------
ছাগল তো আর চাষ করবে না

তালতলের হাটে
পনেরো হাজার টাকায় এক হাল গরু

শুধু কি আর চাষ!

গরুর লেজ ধরে বৈতরণী পার।


--------১৮ বৈশাখ ১৪২৯
-------২-----৫-----২০২৯
-------নির্মল হালদার











ধূলা উড়ানিয়া

ধূলা উড়ানিয়া
-----------------

একটি গাছের তলে একটি মানুষ।

যুবক হতে পারে। মধ্যবয়স্ক হতে পারে। সে আধশোয়া।পাশেই পড়ে আছে একটি বাঁশের লাঠি।
গরুকে শাসন করার জন্য।

এই মানুষটি হলো বাগাল।

রাখালও বলা হয়ে থাকে।

রাখাল বললেই , কৃষ্ণ বা কানাই কে মনে পড়ে। গরু চরাতে চরাতে
বাঁশি বাজায়। রাধার সঙ্গে প্রেম করে।

আজকের বাগালের সঙ্গে অমিল
অবশ্যই আছে। আজকের বাগাল
সকালে এক জামবাটি ভাত খেয়ে এসেছে। দুপুরে আরেকবার যাবে খাওয়ার জন্য। গাই-গরুদের দায়িত্ব দিয়ে যাবে অন্য কোনো বাগালকে। অথবা তাকে খাবার দিয়ে যেতেও পারে ঘর থেকে।

কি গ্রীষ্ম কি শীত কি বর্ষা
গাই--গরুদের সঙ্গে বাগাল। একটা মাঠে বাগাল।

কোনো কোনো মাঠে  ছায়াও
থাকেনা। কাছাকাছি জলাশয় থাকে না। 

গরুদের জল খাওয়াতে হবে।

সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তবেই তো সে বাগাল হতে পারবে। মাঠে মাঠে ধূলা উড়লেও সে প্রহরী।
গাই--গরু ছেড়ে কোথাও যাবেনা।
মন ভালো থাকলে অথবা খারাপ থাকলেও ঝুমুর হাঁকাবে। আজকালকার কোনো কোনো
বাগাল চটুল গানও করতে পারে।
করেও।
সেও তো প্রযুক্তি--প্রবল সময়ে
বসবাস করে।

আস্তে আস্তে এই বাগালি করা জীবিকা লুপ্ত হতে চলেছে।
ঘরের লোক  নিজেরাই গরু বাগালি করতে মাঠে যায়।

আমার কাছে বাগাল একজন
নিঃসঙ্গ মানুষ। যে গাই--গরুর সঙ্গে থেকেও একাকী। নীরব।

ঈশ্বরের মতো?

আমি একটি ছবি দেখতে পাই,
যে ছবির পটভূমিকায় ধুলো উড়ছে শুধু ধুলো । একটি বাঁশিও পড়ে আছে এবং শূন্য বাঁশির
ভেতরে শুয়ে আছে রাখাল।

আমাদের বাগাল ছোঁড়া।


---------২১ বৈশাখ ১৪২৯
--------৫----৫----২০২২
-------নির্মল হালদার























ছবি : অভিজিৎ মাজী









শোভাযাত্রা শেষ, শব যাত্রা শুরু



এই নামে একটি কবিতার বই।

আমার বুক কেঁপে উঠেছে।
কার শব? কাদের শব?

সন্দীপ কি দেখতে পায়না
ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা?
শিশুর হাসি? শালুক ফুলের গৌরব? আকাশের অসীমতা?

সন্দীপ কি বলতে চেয়েছে
এখানে শব যাত্রা এই দেশের?
সময়ের?
ব্যঙ্গ বিদ্রুপ নাকি সন্দীপের মত
একজন সৃজনশীলের দুঃখ বেদনা?

এই বইয়ের প্রতিটি কবিতায়  ছুরির মতো ধারালো ব্যঙ্গ। পড়তে পড়তে দেখতে পেয়েছি এই সময়ের অনৈতিকতা, আদর্শহীনতা এবং মানুষের অসহায়তা।

সন্দীপের পরিচিতি ফটোগ্রাফার হিসেবেই। সে যে কবিও, অধিকাংশ মানুষ জানেনা। সে 
অবশ্য নিঃশব্দ। তার কবি সত্ত্বাকে 
লুকিয়ে রাখতে ভালবাসে। 

লুকিয়ে লুকিয়ে সে হাসেও। লুকিয়ে লুকিয়ে সে ব্যথা-বেদনায়
গুমরে গুমরে চিৎকার করে।
নীরব।

ফটোগ্রাফির মতই সে ছাঁচ ভাঙ্গা
কবিতা লেখে। গীতিকবিতার মূর্ছনা থেকে অনেক দূরে তার
সৃষ্টিকর্ম।
কবিতা রচনা ।
সে ফটোগ্রাফির শাদাকালো রহস্যময়তা থেকে দূরে গিয়ে লেখালেখি করে। যা স্পষ্ট ও সহজ। অথচ গভীর।

কবি--পাঠক ও পাঠকদের কাছে
অনুরোধ করি, সন্দীপের কবিতার বইগুলো সংগ্রহ করুন। পড়তে পড়তে মাথার চুল ছিঁড়তে থাকবেন। নিশ্চিত।

সে সর্বদা ধারাবাহিক স্রোতের বাইরে।আপনাকে রাগিয়ে দিতে দিতে বলবে--------
গভীর প্রেমে কোনো পাপ থাকে না।
গাছ তাই ডাকছে আমায়, আয় আয় আয় আয় আয়।

-----------------------------------
শোভাযাত্রা শেষ
শব যাত্রা শুরু

সন্দীপ কুমার

ছোঁয়া।

-------------------

-------২১ বৈশাখ ১৪২৯
-------৫-----৫-----২০২২
------নির্মল হালদার



সন্দীপ কুমারের কবিতার বই
-----------------------------------------------------------------
১: অজ্ঞাত এক আলোকচিত্রীর আত্মজীবনী।
২: টানা দাগ।
৩: অন্তরঙ্গ।
৪: কবিতা হলে এভাবেই লিখব।









সোমবার, ২ মে, ২০২২

শীতল উষ্ণতা




২০০৮ --এর শেষ নাকি ২০০৯--শুরু থেকে আলাপ
আজ আর স্পষ্ট মনে নেই।

অনেক অনেক গুলো দিন পার হয়ে গেল। সম্পর্কের সেতুতে আসা যাওয়া হলো   ভালোবাসা থেকে ভালবাসায়।

এবং সেই ভালোবাসা দীর্ঘ করেছে
আমাদের উষ্ণতাকে। আমরা দুজনেই দুজনের পায়ের শব্দ শুনতে পাই।

রানার নিঃশ্বাসও এই মুহূর্তে 
শুনতে পাচ্ছি। তার ডাক শুনতে পাচ্ছি। 

আমিও বলছি, এইতো একটু পরেই তোর কাছে যাবো। 
একটু অপেক্ষা কর ভাই।  

তোর কাছে যেতেই হবে। তুই যে
শীতল রানা।
শীতল যে এই এত উষ্ণ---উদার,
তোর সঙ্গে আলাপ না হলে, কখনোই জানতাম না।

উদারতা গ্রহণ করতে পারবো কি?
আমি ভয় করি। কেননা, আমি যে ছোটখাটো মানুষ। কত তুচ্ছ বিষয়ে আমার সংকীর্ণতা আছে। যা রানার মধ্যে নেই।

শীতল রানাকে আমি   ছোট করে 
রানা বলেই সম্বোধন করি। 
আলাপের প্রথম থেকেই। 

পুরুলিয়ার গ্রামের ছেলে, শহরে এসেছিল লেখাপড়া করতে। 
মেসবাড়িতে থাকতো।
সে শুধু না, সঙ্গে ছিল বাবন ভোম্বল।

আমার বাড়িতে যে কোনো বিষয়ে
একসঙ্গে তিন জনকেই ডেকেছি---একসঙ্গে তিনটি নাম
উচ্চারণ করতে মধুর লেগেছে---

রানা বাবন ভোম্বল।

প্রথমের আলাপ বিস্তার লাভ করতে করতে আমার শরীর খারাপ হলে রানা আমার কাছে এসে থেকেছে।

একটা সময় আমি বুঝতে পেরেছি, আমি রানার প্রতি নির্ভরশীল। বিপদে-আপদে পড়লে তার পরামর্শ তার সাহায্য।
 তার কাছে ছুটেও গেছি।তাদের
মেসবাড়িতে।
তখন ওরা কুকস কম্পাউন্ডে থাকতো। 
কখনো কখনো সকাল দিকে
চলে গেছি।

মুড়ি খাবো।

কখনো কখনো দুপুর বেলায় ভাত। তা শুধু রানার টানে।

একটা সময় ছিল রানা শহরে থেকে লড়াই করছে। দুবেলা টিউশন। তাকে কাছে পাওয়াটাও
কঠিন। টিউশন থেকে রাত দশটার পরে ছুটি। রোববারেও সে পড়াতো।

চাকরি পেলেও তার টিউশন থেমে যায়নি। লড়াই থেমে যায়নি।
গ্রামের বাড়ি চাকরির জায়গা এবং পুরুলিয়া করতে করতেও
সে বিধ্বস্ত নয়।

কোনো শীতলতা তাকে স্পর্শ করেনি। বরং সে  শীতল -উষ্ণ।
তাকে আরো উষ্ণতায় পূর্ণ করবে
তার নতুন সঙ্গিনী।

সে নতুন জীবনে প্রবেশ করতে চলেছে। তার নতুন জীবনের জন্য
এই গ্রীষ্ম দিনের আকাশ বাতাস
বেলি ফুলের সুগন্ধ ছড়ায়।

বিবাহ মঙ্গলের চরণ ধ্বনি বেজে উঠছে পথে পথে। অভিবাদন জানায় গাছপালা। কৃষ্ণচূড়া সেজে উঠেছে বিবাহ বাসরে যাবে।

রানার মাথায় ধান দূর্বা।

মা বাবার আশীর্বাদ। ঈশ্বরের আশীর্বাদ। সকলের শুভেচ্ছা নিয়ে
বিবাহ বন্ধনে আমাদের রানা।

রানাজী।

আমিতো আর এখন রানাও বলি না। কাছে থাকলে কিম্বা ফোনেও
"রানাজী"।

যার অন্তর থেকে ফুলের সুবাস।

ছড়িয়ে পড়তে পড়তে পাখপাখালির কাছে। যারা রানার কাছে যাবে-----তার হাত থেকে 
খুঁটে খাবে আলোবাতাসের মত
আহার।

সেই দৃশ্যটি দেখতে দেখতে 
ফল পেকে উঠবে গাছে গাছে।

পাতা ছুঁয়ে ফেলবে আরেকটি পাতা।


-------১৮ বৈশাখ ১৪২৯
------২----৫----২০২২
------নির্মল হালদার



















কবি নির্মল হালদারের বিভিন্ন সময়ের ছবি

পড়ুন "ঘর গেরস্থের শিল্প"

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ